সন্তানের আশায় হাটতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু; দেবীদ্বার স্বামীর বাড়িতে দাফন সম্পন্ন



শফিউল আলম রাজীব,
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি//

সন্তানের আশায় হাটতে গিয়ে রাজধানীর মগবাজার রেলগেট এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত নুসরাত জাহান সুমি (৩৮)’র বাড়িতে শোকের মাতম। অল্প সময়ে সে নিজ এলাকায় সমাজ ও নারী উন্নয়নে ব্যপক সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করেছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তার শ্বশুরবাড়ি দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সরকার বাড়ির জামে মসজিদ মাঠে জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত নুসরাত জাহান সুমি দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের সরকার বাড়ির মৃত: তফাজ্জল হোসেন সরকারের মেয়ে এবং তার স্বামী রাজামেহার গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সরকারের দ্বিতীয় পুত্র পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মুরাদনগর শাখায় কর্মরত তানভীর আহামেদ সরকার। নুসরাত খিলগাঁওয়ের গোড়ানে ভাই জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বাসায় থেকে কাওরান বাজার এলাকায় (বিবিআরএএল) নামে একটি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এনালিস্ট হিসাবে চাকরি করতেন।

৫ বছরের সংসারজীবনে নিঃসন্তান নুসরাত একটি সন্তানের আসায় বিভিন্ন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শনুযায়ী তাকে হাটতে বলা হয়েছে। সেই হাটাই জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিলো তার। নুসরাত সোমবার রাতে অফিস শেষে হেটে বাসায় ফিরার পথে মগবাজার রেলগেট এলাকায় রাত ৯টায় ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় গুরুতর আহত হলে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় কমিউনিটি হাসপাতাল নিয়ে যান। সংবাদ পেয়ে তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম সরকার সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড়ভাই লিটন সরকার বলেন, গতদিন আমি বাড়িতে ছিলাম। রাতে বড়ভাই ফোন করে জানিয়েছেন সুমি এক্সিডেন্ট করেছে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার মৃত বলে জানিয়েছে। আজ তার স্বামীর বাড়িতে লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
 
নুসরাত জাহান সুমীর স্বামী তানভীর আহামেদ সরকার বলেন, তাদের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ৫ বছর পূর্বে। কোন সন্তান না হলেও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে কখনো চীর ধরেনি। সুখে শান্তিতেই চলছিলো আমাদের সংসারজীবন।

Post a Comment

Previous Post Next Post