শফিউল আলম রাজীব,
দেবীদ্বার(কুমিল্লা) প্রতিনিধি//
প্রশাসনিক কর্মকান্ডে সমন্বয়হীনতার অভিযোগে দেবীদ্বারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তীকে বদলী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারী) চট্রগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধূরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে ওই বদলীর আদেশ দেয়া হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তী’কে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলী আদেশ করা হয়েছে।
পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহের নিগার সুলতানাকে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হবে বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর আধিপত্যের দ্বন্ধের জেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সমন্বয় বজায় রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে একের মন রক্ষায় অপরে নাখোশ হওয়ায় কর্মকর্তাগন বিব্রতবোধ করছেন।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তী দেবীদ্বার কর্মস্থলে যোগদান করেন। মাত্র ২ মাস ৭ দিনের মধ্যে বদলীর আদেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তী জানান, এটা নিয়মীত বদলী, জনস্বার্থে যখন যেখানে বদলী করা হয় সেটাই কর্মস্থল।
মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা ৭টায় এ ব্যাপারে কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এর সাথে মোবইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে রাত ৮টায় দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) উপজেলার সূর্যপূর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষীক সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ গহন করে। তিনি এখানে না এসে ধামতী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবীণবরণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় এমপির পিতা সাবেক উপ-মন্ত্রী ও এমপি এএফএম ফখরুল ইসলাম মূন্সী, তিনি এখন একজন সাধারন নাগরিক। এখানে ইউএনও নিয়ম ভঙ্গ করেছেন, তিনি চাইলে দু’টো অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থেকে সময় দিতে পারতেন। তা না করে আসব আসব বলে তিনি আর আসেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তী কাজ বুঝেন কম এবং প্রোটোকল মেনে কাজ করেননা। তাছাড়া তিনি কান কথা শুনে মূল অবস্থানে থাকতে পারেন না । তিনি নিয়মবহির্ভূত ইচ্ছা-স্বাধীন কাজ করায় উন্নয়ন ও নাগরিক স্বার্থে কর্মপরিচালনা বিঘ্নীত হচ্ছে।



Post a Comment