শফিউল আলম রাজীব,
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি//
লোকজন কম থাকায় পাঠদান বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘জাতীয় ভোটার দিবস’র কর্মসূচী পালন করেছেন নির্বচন কর্মকর্তা। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ‘জাতীয় ভোটার দিবস’র র্যালী ও আলোচনা সভায়।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ‘জাতীয় ভোটার দিবস’র প্রতিপাদ্য “ভোটার হব নিয়ম মেনে- ভোট দেব যোগ্যজনে” এ- শ্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত র্যালী শেষে আলোচনা সভায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে সভা করায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সভায় উপস্থিত দেবীদ্বার বাজার কমিটির সভাপতি এ ঘটনার প্রতিবাদ করে বলেন, ভোটার দিবসের র্যালী ও আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীরা থাকতে পারবে অথচ ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চের র্যালীতে শিক্ষার্থীদের রাখা হবেনা এ কেমন সিদ্ধান্ত।
দেবীদ্বার নির্বাচন কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাজী আবুল কাশেম ওমানী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নাজমা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী আব্দুল ওয়াহিদ মোহাম্মদ সালেহ, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর ছাড়াও দুই ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০ জন ছাত্রীর পাঠদান বন্ধ করে ইউএনও সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে র্যালী ও আলোচনা সভায় উপস্থিত রাখার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এছাড়াও জাতীয় ভোটার দিবসের মত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের দাওয়াত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, ‘জাতীয় ভোটার দিবসের কোন চিঠি পাননি তারা।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিরিন সুলতানা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে, আমি নারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। নারীদের এগিয়ে নিতে উপজেলার সকল অনুষ্ঠানে আমি দাওয়াত পেলেও জাতীয় ভোটার দিবসের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠনে দাওয়াত না পাওয়াটা খুবই দুঃখজনক।
দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউএনও মেডাম আমাকে ফোনে বলেছেন ৩০ জন ছাত্রী র্যালীতে রাখতে। আমি সকাল ১০ ঘটিকায় ছাত্রীদের নিয়ে র্যালীতে যাই, কিন্তু র্যালী শেষে সভায়ও শিক্ষার্থীদের রেখে দেওয়া হয়।
নির্বাচন কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাদের কমিটির সদস্য। শিক্ষার্থীদের র্যালীর জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু মিটিংয়ে লোকজনের উপস্থিতি কম থাকায় শিক্ষার্থীদে মিটিংয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডেইজী চক্রবর্তীও নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে বিষয়টি জানেন।
কুমিল্লা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা যেকোনো সরকারী প্রোগ্রামের র্যালীতে থাকতে পারে তবে পাঠদান বন্ধ করে অনুষ্ঠানে থাকার কোন নিয়ম নেই।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।



Post a Comment