দেবীদ্বারে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

 



শফিউল আলম রাজীব,
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

বাঙালির গৌরবদীপ্ত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন। প্রতিবছর বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় দিনটি উদযাপন করে জাতি। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার (২৬ মার্চ) কুমিল্লার দেবীদ্বারে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে।

বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সূচনা হয়। পরে উপজেলার বঙ্গবন্ধু ম্যোরালে, স্বাধীনতা স্তম্ভে ও গণকবরে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন স্থানীয় সংসদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ, উপজেলা আওয়ামিলীগ ও এর অংগ-সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানার সভাপতিত্বে সকাল ৮টায় দেবীদ্বার এবিএম গোলাম মোস্তফা স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার'র সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। এসময় জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,  উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ওমানি, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নাজমা বেগম, দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর, থানা সাবেক মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল সামাদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল চৌধুরী, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী আবুল কাশেম, কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শিরিন সুলতানা, জেলা পরিষদ সদস্য বাবুল হোসেন রাজু, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান্যান আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম, প্রফেসর হুমায়ুন কবির, মোঃশাহজাহান, হাজী জালাল, এমকেএম কামরুজ্জামান মাসুদ, মোকবল হোসেন মুকুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

অতিথিরা স্বাধীনতা ও মহান জাতীয় দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের মানচিত্র পেয়েছি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি বেঁচে থাকতো তাহলে আরো আগেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে রুপান্তরিত হতো। স্বাধীনতার ৫২ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আমাদের দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব মন্দা করোনা মহামারী সকল বাঁধা পেরিয়ে বাংলাদেশ এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের মাঝে সম্মাননা ক্রেষ্ট বিতরন করা হয়েছে। দুপুরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ গুলোতে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের উন্নয়নে বিশেষ মোনাজাত, বিকেলে মহিলাদের ক্রীড়া অনুষ্ঠান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, সন্ধ্যায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

Post a Comment

Previous Post Next Post