দেবীদ্বারে তুচ্ছ ঘটনায় তুলকালাম কান্ড; যুবক নিহত আহত ১৫; বাড়িঘর ভাংচুর

 


শফিউল আলম রাজীব,
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি// 

কুমিল্লা দেবীদ্বারে মায়ের সামনে ছেলেকে শাসন করার তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। ওই ঘটনায় রহিম নামে এক যুবক নিহত ও অন্তত: ১৫ জন আহত এবং বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা চলাকালে পুলিশ ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। 

ঘটনাটি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়নপুর (ছগুরা) গ্রামের লতিফ মিয়ার বাড়িতে ঘটে।


নিহত যুবক আব্দুর রহিম(২২) দক্ষিণ নারায়নপুর (ছগুরা) গ্রামের সিএনজি চালক জীবন মিয়ার পুত্র। সে একটি জুতা কারখানার শ্রমিক ছিল। আহতদের দেবীদ্বার ও কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে মারাত্মক আহত নিহত রহিমের পক্ষের স্মৃতি আক্তার(১৯), বেগম রুজিনা(৩০)'কে দেবীদ্বার ও শাহিনূর আক্তার নীলা এবং মামুনের পক্ষের মৃত: জামাল মিয়ার পুত্র মাঈনুল(২৮)কে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে রহিমের মৃত্যুর সংবাদে মামুনের পক্ষের মাঈনুল কুমেক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।
    
স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ নারায়নপুর(ছগুরা) গ্রামের লতিফ মিয়ার বাড়ির আমির হোসেন’র পুত্র সিয়াম (১৫) শুক্রবার সকাল ১১টায় তার মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করায় একই বাড়ির মৃত জামাল মিয়ার পুত্র মামুন(২৫) তাকে শাসনের ছলে বেধরক মারধর করে। এতে ক্ষুব্ধ হয় সিয়ামের পরিবার। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হলেও জুম্মার নামাজের কারনে ঝগড়ায় বিরতি ঘটে। এরই মাঝে মামুন তার বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের লোকদের নিয়ে সংঘবদ্ধ হতে থাকে। জুম্মার নামাজের পর ওই বাড়ির মৃত: আলাউদ্দিনের মেয়ে শাহিনুর আক্তার নীলা(২৭) কুমিল্লা থেকে বাড়ি আসার পথে মামুনের নেতৃত্বে একদল লোক নীলাকে লাঠিপেটায় মারাত্মক আহত করে। নীলা তাদের বাড়ির ঝগড়ার ঘটনা না জানলেও প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় প্রথমে দেবীদ্বার এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আহত নীলা কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এর সাবেক কমিশনার নাজমুল হাসানের স্ত্রী।


ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নীলার পরিবার ও মামুনের পরিবারের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষ হকিষ্টিক, লাঠি, রড, দা, ছেনি নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় অন্ত:ত ১৪/১৫ জন আহত ও মামুনদের বাড়িঘর পিটিয়েও কুপিয়ে ভাংচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে জীবন মিয়ার ছেলে আব্দুর রহিমের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে প্রথমে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে, পরে কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এব্যপারে জাফরগঞ্জ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ সোহরাব  হোসেন ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ি আব্দুল আজিজ খান জানান, মৃত: আলাউদ্দিন ড্রাইভারের মেয়ে শাহিনুর আক্তার নীলা কুমিল্লা থেকে ছগুরা বাসষ্ট্যান্ডে নামার পর মামুন, কামাল হোসেন এবং জাফরগঞ্জ ইউপি’র ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার আঃ হালিমের নেতৃত্বে তার উপর হামলা চালায়। সংবাদ পেয়ে পার্শবর্তী বুড়িচং উপজেলার পশ্চিম সিং থেকে নীলার কিছু আত্মীয়-স্বজন আসলে মামুনরা তাদের ঘেরাও করে। হালিম মেম্বার মামুনদের পক্ষ নিয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে নীলার আত্মীয়দের থানায় নিয়ে যায়। 

এব্যপারে জাফরগঞ্জ ইউপি’র ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার আঃ হালিম জানান, মারামারির ঘটনার সংবাদে আমি ঘটনাস্থল আসি এবং দু’পক্ষকে থামিয়ে দু’দিক পাঠিয়ে দেই। রাতে খবর পাই ঢাকায় রহিম মারা গেছে। আমার নেতৃত্বে হামলার ঘটনা মিথ্যা।গত ইউপি নির্বাচনে সোহরাব চেয়ারম্যানের পক্ষে না থাকায় আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রনোদীত ভাবে হয়রানী করতে এ অভিযোগ তুলছে। এছাড়া পার্শবর্তী উপজেলার পশ্চিম সিং গ্রামের কিছু লোকজন এসে মামুনদের বাড়িঘর ভাংচুর করাকালে স্থানীয়রা তাদের আটক করে ৯৯৯-এ ফোন এবং থানায় খবর দিলে পুলিশ ৭জনকে ধরে নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত মামুন জানান, সিয়াম তার মায়ের সাথে ব্যবহার খারাপ করায় তাকে শাসন করি, এনিয়ে সিয়ামের পরিবার তার আস্মীয়-স্বজন নিয়ে আমাদের ঘরদরজা কুপিয়ে ও পিটিয়ে ভাংচুর করে। ঘটনার পর আমরা সবাই বাড়ি ছাড়া, নিরাপদে অন্যত্র আশ্রয়ে আছি। 

নিহত রহিমের বাবা জীবন মিয়া এবং মা’ পারভীন আক্তার বলেন, আমি আমার পুত্র হত্যার বিচার চাই, পুত্র হত্যাকারীদের ফাঁসী চাই।

এ ব্যাপরে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এ ব্যপারে কোন পক্ষই (শনিবার বিকেল পর্যন্ত) থানায় মামলা বা লিখিত অভিযোগ করেনি। সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭জনকে থানায় এনেছি। 

Post a Comment

Previous Post Next Post