শফিউল আলম রাজীব,
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি//
কুমিল্লার দেবীদ্বারে রাহিম হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ প্রায় ৩৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বাবা জীবন মিয়া বাদী হয়ে শনিবার রাতে দেবীদ্বার থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় এজাহারভুক্ত ১৯জন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০কে আসামি করা হয়েছে। মামলায় জাফরগঞ্জ ইউপির ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আঃ হালিমকে হুকুমের আসামী করা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করে রোববার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ঘটনার পর থেকে দক্ষিণ নারায়নপুর গ্রামজোড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রেফতার আতংকে পুরুষ শূন্য হয়েছে পড়েছে পুরো গ্রাম।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিন নারায়নপুর (ছগুরা) গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মোঃ জসিম উদ্দিন, একই গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম ও মনু মিয়ার ছেলে মোঃ কামাল হোসেন।
এছাড়াও উক্ত ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করে দেবীদ্বার থানা পুলিশ। তাদেরকেও ১৫১ ধারায় আজ দুপুরে আদালতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়নপুর (ছগুরা) গ্রামে লতিফ মিয়ার বাড়ির আমির হোসেন’র পুত্র সিয়াম তার মায়ের সাথে দুর্ব্যবহার করায় একই বাড়ির মৃত; জামাল মিয়ার পুত্র মামুন তাকে শাসনের নামে বেধরক মারধর করে। এতে ক্ষুব্ধ সিয়ামের পরিবারের সাথে মামুনের পরিবারের ১ম দফা সংঘর্ষ হয়। দুপুরে ওই বাড়ির মৃত: আলাউদ্দিনের মেয়ে শাহিনুর আক্তার নীলা কুমিল্লা থেকে বাড়ি আসার পথে মামুনের নেতৃত্বে একদল লোক নীলাকে লাঠিপেটা করে। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সিয়াম ও নীলার পরিবার এবং বাড়ির লোকজনের সাথে মামুনের পরিবারের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্ত:ত ১৪/১৫ জন আহত ও মামুনদের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এ সময় সংঘর্ষে একই বাড়ির জীবন মিয়ার ছেলে আব্দুর রাহিম মারাত্মক আহত হয়। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে ওইদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, রাহিম হত্যাকান্ডে জড়িত এজহারনামীয় তিনজনকে রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে আটকৃত ৬ জনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে রাহিমের বাবা জীবন মিয়া ১৯জনের নাম উল্লেখ পূর্বক থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। প্রকৃত আসামীদের খোঁজে বের করা হবে।



Post a Comment