শফিউল আলম রাজীব,
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি//
কুমিল্লার দেবীদ্বারে পরকীয়ার অভিযোগে বাহরাইন প্রবাসী যুবক ও এক গৃহবধূকে প্রায় ৯ঘন্টা গাছের সাথে বেঁধে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের বাবরী মিয়ার বাড়িতে সংগঠিত ওই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২/৩ বছর যাবৎ গৌরসার গ্রামের বাচ্চুমিয়ার পুত্র বাহরাইন প্রবাসী নূরুল হক(৪০) এর সাথে মোহাম্মদপুর গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী রোকসানা বেগম (৩৮)'র পরকীয়া চলছে। মঙ্গলবার ভোররাত ৩টায় রোকসানা নুরুল হককে মোবাইল ফোনে ডেকে তার ঘরে আনে। নূরুল হক বাড়ি থেকে বের হলে তার বড় ভাই মো. এনামুল হক তাকে অনুসরন করে ওই বাড়ি আসেন এবং রোকসানার দাদাশ্বশুর বাবরী মিয়াকে ডেকে এনে দু’জনকে ঘরে তালাবন্ধী করেন। পরে বাড়ির লোকজন এসে পরকিয়ায় আটক যুগলকে প্রায় ৯ ঘন্টা গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে শারিরীক নির্যাতন চালায়।
ঘটনার পর স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সালিস করে, সালিসে রোকসানার প্রবাসী স্বামী বাড়ি আসলে তাদের বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে মর্মে রোকসানাকে এক কাপড়ে বাবার বাড়িতে এবং নুরুল ইসলামকে তার ভাই ও স্বজনদের জিম্বায় ছেড়ে দেন।
স্থানীয় এলাহাবাদ ইউনিয়নের ১নং ইউপি মেম্বার আবুল হোসেন'র সভাপতিত্বে ওই সালিসে উভয় পক্ষের লোকজন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সালিসদার মোজাফ্ফর আহমদ, নজরুল ইসলাম, রমিজ উদ্দিন, সাদেক মিয়া, বাবরী মিয়া, অহিদ মিয়া, আজিজ খান, রঞ্জিত দে, ১,২ও ৩ নং সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম প্রমূখ।
এ ব্যপারে রোকসানা বলেন, নুরুর সাথে আমার ভাই বোনের সম্পর্ক ছিল, পরে আমাদের প্রেমের সম্পর্ক হয়। সে রাত ৩টায় এসে আমার ঘরের দরজা নক করলে তাকে ঘরে ঢুকতে দেই, এরই মধ্যে কিছু লোকজন এসে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সালিসে আমাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়।
নুরুল হক জানান, রোকসানা আমাকে বিদেশ থেকে প্রায় ৬ মাস পূর্বে ডেকে আনে। আমাদের কোর্ট মেরিজ হয়। গতরাতে সে আমাকে ফোনে ডেকে আনে।
এ বিষয়ে এলাহাবাদ ইউনিয়নের ১নং ইউপি মেম্বার আবুল হোসেন জানান, এমন ঘটনার সালিস করার এখতিয়ার আমাদের নেই, তাই যার যার বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। রোকসানার স্বামী প্রবাস থেকে আসার পর এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তবে ওই ইউপির ১,২ ও ৩ নং সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম বলেন, এটা অমানবিক কাজ করা হয়েছে। ১২ ঘন্টা তাদের উন্মূক্ত যায়গায় আটকে রেখে, এতোগুলো মানুষের সামনে গাছের সাথে কোমরে রশি বেঁধে নির্যাতন করার পর বলা হল, যার যার বাবার বাড়িতে চলে যাও। পুরুষ লোকটির ভাগ্যে যাই হোক কিন্তু মহিলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই এক কাপড়ে বিদায় করা হল। তার স্বামী দেশে আসলে বিচার হবে বলা হল, বিচারে রোকসানাকে তালাক দিলে তার দায়ভার নুরুকে বহন করতে হবে, এমন কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই। কাউকে দুষি সাভ্যস্তও করা হলনা। এটা ন্যায় বিচার হলনা।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ওসি কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, এমন ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। তবে যেহেতু বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি, তা খতিয়ে দেখবো।

%20PIC;-04.04.2023G..jpg)

Post a Comment