কুমিল্লায় বিএনপির মহাসমাবেশকে সামনে রেখে সাবেক দলীয় সাংসদ'কে কেন্দ্রের সতর্কীকরণ



শফিউল আলম রাজীব,
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি//

কুমিল্লায় বিএনপির দলীয় মহা সমাবেশকে সামনে রেখে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা (উঃ) জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার বিএনপি দলীয় ৪ বারের নির্বাচিত সাবকে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সীকে সতর্ক করলেন কেন্দ্রীয় কমিটি।

কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক (সূত্র নং- বিএনপি /সাধারন/৭৭/১৪১/২০২২) সতর্কীকরণ বার্তায় দলীয় শৃংখলা বিরোধী কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। সোমবার ওই চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে তিনি নতুন করে আবারো আলোচনায় আসেন।
 
উল্লেখ্য; সম্প্রতি দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপি ও কুমিল্লা (উঃ) জেলা বিএনপির আধিপত্ত্য নিয়ে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা (উঃ) জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার বিএনপি থেকে ৪ বারের নির্বাচিত সাবকে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সী ও সদ্য ঘোষিত বিএনপি কুমিল্লা (উঃ) জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মূন্সীর মধ্যে স্থানীয় রাজনীতির দ্বন্ধ চলতে থাকে। তারা উভয় দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে গত ১৪ নভেম্বর কুমিল্লা (উঃ) জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে বিভাগীয় গনসমাবেশের প্রস্তুতি সভা কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ‘নুরমহল হোটেলে’ আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের ব্যানারে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার বিএনপি দলীয় ৪ বারের নির্বাচিত সাবকে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সীর নাম না থাকায় তার সমর্থকরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে  প্রতিপক্ষ তারেক মূন্সীর সমর্থকদের সাথে কথা কাটাকাটি ও ব্যানার ছেড়াসহ তুলকালাম কান্ড ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সংক্ষিপ্ত সভা করে চলে যান।
  
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সচিব রুহুল কবির রিজভী কর্তৃক গত ১৭ নভেম্বর স্বাক্ষরিত ওই সতর্কীকরণ বার্তায় (সাবেক সাংসদ মঞ্জু মূন্সীকে উদ্দেশ্য করে) উল্লেখ করেন, গত ১৪ নভেম্বর কুমিল্লা (উঃ) জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে বিভাগীয় গনসমাবেশের প্রস্তুতি সভা কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ‘নুরমহল হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়’। সভায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলুসহ কেন্দ্রীয় ও কুমিল্লা (উঃ) জেলার গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রস্তুতি সভা চলাকালে আপনার নেতৃত্বে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যক্তি চিৎকার, গালমন্দ, চেয়ার-টেবিল ভাংচুর ও ব্যানার ফেষ্টুন টেনে ছিড়ে এক ভয়ানক বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যা সম্পূর্ণরুপে সংগঠন বিরোধী গুরুতর আচরণ। আপনার এহেন শিষ্টাচার বহিভূত কর্মকান্ডে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। 
আপনার এধরনের সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের কারনে আগামী ২৬ নভেম্বর শনিবার কুমিল্লা বিভাগীয় গণসমাবেশে কোন বিঘ্ন ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব আপনার উপর বর্তাবে। নির্দেশিত হয়ে জানাচ্ছি যে, আপনার বেপরোয়া অসদাচরণের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য আপনাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হলো। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সচিব রুহুল কবির রিজভীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
 
বিএনপি কুমিল্লা (উঃ) জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মূন্সী বলেন, ঘটনার দিন (১৪ নভেম্বর ) আগামী ২৬ নভেম্বর বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রস্তুতি সভার উপস্থাপনা করছিলাম। হঠাৎ মঞ্জু মূন্সীর সমর্থকরা এসে চেয়ার টেবিল ভাংচুরই নয়, ব্যানারও ছিড়ে ফেলে। আমাকেসহ আমার সমর্থকদের মারধর করে। ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সীকে কেন্দ্রীয় কমিটির সতর্কিকরণ বার্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটা হাই কমান্ডের বিষয়। যে কেউ সংগঠন বিরোধী আচরণ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার সন্ধ্যায় সংগঠন বিরোধী সতর্কিকরণ চিঠি প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা (উঃ) জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী এলাকার বিএনপি দলীয় ৪ বারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সী বলেন, আমি সংগঠনের আচরণ সম্পর্কে অবগত আছি। সে দিন (১৪ নভেম্বর) আমি প্রস্তুতি সভায় ছিলাম সত্য, তবে সংগঠনের শৃংখলা বিরোধী এমন কোন কর্মকান্ড আমার নেতা- কর্মীরা করে নাই। আমার নেতা কর্মীরা কুমিল্লার মহাসমাবেশকে সফল করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সমাবেশে আমার নির্বাচনী এলাকা থেকে ২০ হাজার লোক অংশ নিলে ১৯ হাজার লোকই আমার থাকবে বাকী এক হাজার লোক হবে আওয়ামীলীগ মার্কা ধানের শীষের লোক। তাছাড়া আমার জনপ্রিয়তা সহ্য করতে না পেরে  আওয়ামীলীগ মার্কা ধানের শীষের লোকজন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post